স্বামী-প্রেমিক নিয়ে একই ছাদের নিচে বসবাস!

সম্পর্কের জগতে প্রতিদিনই দেখা যায় নতুন নতুন ধারা। এমনই এক ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ব্রায়নশায়ারের বাসিন্দা ট্যামিকা ওয়াইল্ডার, যিনি পেশায় সম্পর্ক ও দাম্পত্য পরামর্শদাতা।

সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি জানান—তিনি বর্তমানে স্বামী, প্রেমিক ও দুই সন্তানসহ একই বাড়িতে বসবাস করছেন।

ট্যামিকার মতে, তিনি ও তার সঙ্গীরা ‘ওপেন রিলেশনশিপ’-এ বিশ্বাস করেন—অর্থাৎ পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে একাধিক সম্পর্ক বজায় রাখা, যেখানে প্রত্যেকেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ও রাজি।

ট্যামিকা ও তার স্বামী হ্যারি ১১ বছর ধরে সংসার করছেন। তাদের দুটি পুত্রসন্তানও রয়েছে। ২০১৮ সালে নিউ সাউথ ওয়েলসের এক অনুষ্ঠানে রব নামের এক তরুণের সঙ্গে তার আলাপ হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব তৈরি হয়।
বাড়ি ফিরে ট্যামিকা বিষয়টি স্বামীকে খোলাখুলি জানান। অনেক আলোচনার পর, স্বামী ও প্রেমিক দু’জনেরই সম্মতিতে তারা তিনজন মিলে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন।

ট্যামিকার দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে পরিবারের ভেতর খোলামেলা যোগাযোগ ও মানসিক স্বচ্ছতা বেড়েছে। তার দুই সন্তানও নাকি বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নিয়েছে।

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এই ধরনের সম্পর্ককে “সম্মতির ভিত্তিতে বহুগামী সম্পর্ক” (Consensual Non-Monogamy) বলা হয়। এর মূল ভিত্তি হলো — পারস্পরিক সম্মতি, সততা ও খোলামেলা আলোচনা।
তবে তারা সতর্ক করেছেন, এমন সম্পর্ক মানসিকভাবে জটিল এবং এতে সবার আবেগিক চাহিদা ও সীমারেখা স্পষ্ট না থাকলে দ্বন্দ্বের সম্ভাবনা থাকে।

মনোবিশ্লেষকরা বলেন, আধুনিক সমাজে অনেকেই সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সততার জায়গাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। কারও কাছে “ওপেন রিলেশনশিপ” হলো নিজেদের অনুভূতি প্রকাশের এক বিকল্প পথ, আবার কারও কাছে এটি চলতি সম্পর্ক ব্যবস্থার বাইরে যাওয়ার সাহসী পদক্ষেপ।

তবে সমাজের বড় অংশ এখনো এ ধরনের সম্পর্ককে গ্রহণযোগ্য মনে করে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, যে কোনো সম্পর্কেই পারস্পরিক সম্মান, দায়িত্ববোধ এবং মানসিক সুস্থতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।