বছরের পর বছর দুধ কেনেন না! নিজের বুকের দুধ পান করেই টাকা বাঁচানোর দাবি নারীর

যুক্তরাষ্ট্রের Georgia অঙ্গরাজ্যের এক নারী সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। কারণ, বাজার থেকে দুধ কেনার পরিবর্তে তিনি নিজের বুকের দুধ পান করেন বলে দাবি করেছেন। ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে খরচ কমানোর এই অস্বাভাবিক উপায় নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।

দুই সন্তানের এই মা জানান, সন্তান জন্মের কয়েক বছর পরও তাঁর শরীরে দুধ উৎপাদন হয়। শিশুর প্রয়োজন মিটে যাওয়ার পর অতিরিক্ত দুধ ফেলে না দিয়ে তিনি নিজেই তা ব্যবহার করেন। কখনও সরাসরি পান করেন, কখনও স্মুদি বা অন্যান্য খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খান। তাঁর মতে, এতে দুধ নষ্টও হয় না, আবার আলাদা করে বাজার থেকে দুধ কেনার প্রয়োজনও পড়ে না।

স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই নারী বলেন, তিনি বহু বছর ধরে বাজার থেকে গরুর দুধ কেনেন না। তাঁর ভাষায়, “যখন আমার কাছে স্বাভাবিকভাবেই একটি পুষ্টিকর বিকল্প রয়েছে, তখন আলাদা করে দুধ কেনার প্রয়োজন দেখি না। আমি স্বনির্ভর হওয়ার চেষ্টা করছি এবং একই সঙ্গে অর্থও সাশ্রয় করছি। এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং এতে নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে।”

নারীর দাবি, এই অভ্যাসের কারণে প্রতি সপ্তাহে দুধ কেনার যে খরচ হতো, তা পুরোপুরি সাশ্রয় হচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় তিনি এটিকে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন। একই সঙ্গে তিনি এটিকে পরিবেশবান্ধব বলেও উল্লেখ করেছেন, কারণ এতে প্যাকেটজাত দুধ উৎপাদন, পরিবহন ও বিপণনের প্রয়োজন কমে যায়।

তবে বিষয়টি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই একে অস্বাভাবিক ও অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস বলে সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে এটি করা হয়, তাহলে এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং এতে আপত্তির কিছু নেই।

চিকিৎসাবিদদের মতে, মায়ের নিজের বুকের দুধ পান করা সাধারণ ঘটনা নয়, তবে এতে সরাসরি কোনো বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রমাণও নেই। অতীতে এমন কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়েছিল যেখানে কিছু নারী অতিরিক্ত বুকের দুধ নষ্ট না করে নিজেরাই পান করতেন।

নারীর এই দাবি ও ভিডিও ইতোমধ্যেই লাখো মানুষের নজর কেড়েছে। অনেকের কাছে এটি মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সৃজনশীল উপায়, আবার অনেকের কাছে এটি কেবলই বিতর্কিত ও অদ্ভুত একটি সিদ্ধান্ত। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—একটি ব্যক্তিগত অভ্যাসই এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।